আজ শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ || ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫   |   sonalisandwip.com
সন্দ্বীপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতা কেমন হওয়া প্রয়োজন?

 এস এম জাকিরুল আলম মেহেদী

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উপকূলীয় জনপদ সন্দ্বীপের একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, বারবার নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবকাঠামোগত পশ্চাৎপদতা—সব মিলিয়ে এ দ্বীপের মানুষের জীবন অন্য সব এলাকার মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সংগ্রামী। তাই সন্দ্বীপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে কেবল রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে নয়, বরং জনতার প্রকৃত ত্রাণকর্তা হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

কী কী গুণ থাকা জরুরি?

১. সততা ও স্বচ্ছতা:
জনগণ আর প্রতিশ্রুতির বন্যা চায় না, তারা চায় কথার সাথে কাজের মিল। ভবিষ্যৎ নেতাকে নিজের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনে সততা প্রদর্শন করতে হবে।

২. শিক্ষিত ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন:
আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সক্ষম শিক্ষিত নেতৃত্বই উন্নয়নকে টেকসই করতে পারবে।

৩. মানবিক ও সহজপ্রাপ্য:
জনগণ যাতে সহজেই কাছে যেতে পারে, দুঃখ-দুর্দশার কথা বলতে পারে—সেই মানবিক গুণটি নেতার মধ্যে থাকতে হবে।

৪. উন্নয়নচিন্তা ও ভিশন:
অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং উপকূল সুরক্ষা—এসব ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা থাকতে হবে।

৫. দলমত নির্বিশেষে জনগণের প্রতিনিধি:
শুধু দলীয় রাজনীতির সীমায় আবদ্ধ না থেকে পুরো দ্বীপের প্রতিনিধিত্ব করার মানসিকতা থাকতে হবে।

জনগণের আস্থা অর্জনে কী কী পদক্ষেপ জরুরি?

১. স্বাস্থ্য খাতে অগ্রাধিকার

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা।

২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা চালু রাখা।

চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও উপকূল ভাতা বাস্তবায়ন।

২. শিক্ষা খাতের সংস্কার

স্কুল-কলেজের মানোন্নয়ন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন।

নারী শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ।

প্রবাসীদের সহায়তায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা।

৩. যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

নৌ-যোগাযোগের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে সেতু ও স্থায়ী সংযোগ ব্যবস্থার উদ্যোগ।

ভাঙনরোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ।

গ্রামীণ সড়ক ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি।

৪. চাকরি ও অর্থনৈতিক সুযোগ

শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহায়তা।

কৃষি, মৎস্য ও প্রবাসী নির্ভর অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

৫. জনসম্পৃক্ততা ও জবাবদিহিতা

নিয়মিত গণশুনানি আয়োজন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন।
৬.নিরাপদ নৌযোগাযোগ এবং সব ঋতুতে চলাচল উপযোগী হোভারক্রাফট চালু এখন সময়ের দাবী। 

সন্দ্বীপের মানুষ বহু প্রতীক্ষায় আছে একজন যোগ্য, সৎ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতার, যিনি প্রতিশ্রুতির মোড়ক নয় বরং কাজের বাস্তবায়ন দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করবেন। সময় এসেছে এমন নেতৃত্ব গড়ে তোলার, যিনি দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সন্দ্বীপের মানুষের ভবিষ্যৎকে নতুন আলোয় আলোকিত করবেন।

-

# প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক