আজ শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫ || ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শুক্রবার, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫   |   sonalisandwip.com
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের  বক্তব্য প্রত্যাহার দাবী : চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সমাবেশ

# চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সমাবেশ # 

 চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ( সিএমপি) কমিশনারের সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া নসিহত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রত্যাহারের উদ্যোগ না দিলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের নিয়ে সংগ্রামী কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দেয়া হয়েছে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।  
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের ( সিইউজে ) সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী এই ঘোষণা দিয়ে বলেছেন বলেন, আমরা কোন পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়াইনি। কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও দাড়াঁইনি।
যে পুলিশ বাহিনী মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ বিসর্জন করেছেন, বিশ্ব সভায় শান্তি নিরাপত্তায় প্রশংসিত হয়েছেন সেই পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে আমরা মাঠে নামেনি। আমরা দাড়িঁয়েছি আমাদের সহকর্মীর প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তার হুমকীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। প্রেসক্লাব যারা দখল করে নিজেদের হর্তাকর্তা ভাবছেন তাদের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, এ পরিস্থিতিতে আপনারা আজকে নিরব কেন?!অতীতে যখনই আমাদের অধিকারের প্রশ্ন এসেছে আমরা যুথবদ্ধভাবে কাজ করেছি।  
   
আজ বৃহষ্পতিবার বিকাল আড়াইটায় নগরীর এস এস খালেদ রোডে 'সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের সাম্প্রতিক হুমকি, বেআইনী ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের  প্রতিবাদে সিইউজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী  ।  

সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশে  বিএফইউজের সহসভাপতি শহীদ উল আলম বলেন, সাংবাদিকরা নিশ্চুপ থাকলে সমাজ অন্ধকার হয়ে যাবে। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোন বন্ধু নেই। সাংবাদিকদের প্রকৃত বন্ধু হচ্ছে জনগন।  

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাউদ্দিন মো. রেজা বলেন, সাংবাদিকরা জেগে উঠেছেন। সাংবাদিকরা প্রতিবাদ করতে রাজপথে এসেছেন। আজকের এ প্রতিবাদী কমর্সূচী পেশাদার সাংবাদিকরা ঐক্যের  প্রকাশ । 

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ বলেন, সিএমপি কমিশনারের প্রতিবাদ লিপিকে আমি ছোটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শুভকে বলেন সিএমপি কমিশনের প্রতিবাদ লিপিকে আমরা প্রতিবাদলিপি বলছি না। আমি এটাকে হুমকী হিসেবে বিবেচনা করি। সিএমপি কমিশনার এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে পারেন না। আমরা আপনার কাছ থেকে সাংবাদিকতা শিখতে রাজি আমরা এটাকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেছি এমপি কমিশনের এ ধরনের ভাষায় কথা বলতে পারেন না আমরা আপনার কাছ থেকে সাংবাদিকতা শিখতে রাজিনই। আমরা আপনার প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর্নীতি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে সাংবাদিকতা করি। অবিলম্বে পুলিশ কমিশনারকে তাঁর শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।  

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের একটি অংশের নির্লজ্জতার কারণে আজকে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি। এ সুযোগে পুলিশও সাংবাদিকদের উপর চড়াও হওয়ার সুযোগ নিচ্ছে।  

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাজিম উদ্দিন শ্যামল বলেন, সাংবাদিকরা রাজপথে নেমেছেন তাদের নিরাপত্তার জন্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু সাংবাদিকতার নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা আজ পযর্ন্ত নিশ্চিত হয়নি। 

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাইদুল ইসলাম জানান, আমার সহকর্মী যে নিউজ করেছে এতেই অনিয়ম দূর্নীতির যাবতীয় তথ্য প্রমাণ রয়েছে। 

বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য আজহার মাহমুদ বলেন,  আমাদের প্রত্যাশা ছিল পেশাগত নিরাপত্তা।  আমাদের বলা হয়েছিল, বৈষম্য আর থাকবে না। মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। কিন্তু আজ নিরাপত্তাহীন এক গভীর উদ্বেগময় পরিবেশ দেখছি। তাই আমরা মাঠে নামতে আজ বাধ্য হয়েছি। 

বিএফইউজের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক  প্রণব বড়ুয়া অর্ণব বলেন, ব্যাটারি রিকসা কেন্দ্রিক পুলিশের সমস্ত অনিয়ম ও দূনীর্তির তথ্য সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক চ্যানেল  24 এর প্রতিবেদক এমদাদুল হক বলেন, আমার নিউজে সিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম দূনীতির সুষ্পষ্ট তথ্য তুলে ধরার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সিএমপি কমিশনারের হুমকী দেয়ার ঘটনা খুবই দু:খজনক। 

দৈনিক আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ বলেন, সাংবাদিকরা যখনই পেশাদারিত্ব দেখাতে চায় তখনই এ ধরনের নির্যাতন নিপীড়ন আমাদের উপর নেমে আসে। পুলিশের ইমেজ এমনিতেই শূন্যের কোটায়। আপনারা দয়া সাংবাদিক নির্যাতনের মতো কাজ করবেন না।  

টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব বলেন, অবিলম্বে সিএমপি কমিশনারের দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে তাকে অব্যাহতি দিতে হবে।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের টিভি ইউনিটের প্রধান গাজী টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তৌহিদুল আলম বলেন, আমার সহকর্মীর উপর চড়াও হয়ে সাংবাদিকতাকে যারা ( সংশ্লিষ্ট পুলিশ ) রূদ্ধ করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা আজকে রাজপথে দাঁড়িয়েছি।  

টিভি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব একেআজাদ বলেন,  পুলিশের রোষানলে পড়া সাংবাদিক এমদাদুল হক সাংবাদিকতার যাবতীয় এথিকস মেনেই নিউজটি করেছিলেন। পুলিশের অনিয়মের জায়গায় হাত দিয়েছেন বলেই কমিশনার সাহেবের পক্ষ সাংবাদিকদের হুমকী দিয়ে বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আবির আহমেদ বলেন, আজকের এ প্রতিবাদী কর্মসূচী প্রমাণ করে বিপদের সময় সর্বস্তরের সাংবাদিকরা এক ও অভিন্ন । ৫ আগস্টের পর আমরা যেই বাংলাদেশ পেয়েছি তা আগের ধারাতেই চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- সিইউজের সহ-সভাপতি স ম ইব্রাহিম,, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান  খোরশেদুল আলম, সিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও একুশে টিভির ব্যুরো চিফ হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম,  সিইউজের প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য আহসান হাবিবুল আলম, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুনা আনসারি, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজেশ চক্রবর্তী, 
চট্টগ্রাম টিভি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্কের আহবায়ক জিয়াদ আহমেদ, ডেইলি স্টারের ব্যুরো চিফ শিমুল নজরুল, সিইউজের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, সাবেক প্রচার সম্পাদক ইফতেখার ফয়সাল, সিনিয়র সাংবাদিক শারিয়ার হাসান, জাগো নিউজ এর ব্যুরো প্রধান ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার রেজা মোজাম্মেল, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের 
সাবেক সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রচার সম্পাদক সাইমন আল মুরাদ, দপ্তর সম্পাদক পারভেজুর রহমান, সিইউজের এর সম্মানিত সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক বিপুল বড়ুয়া, চম্পক চক্রবর্তী, আজিজুল কদির, মিজানুর রহমান ইউসুফ, সঞ্জয় মল্লিক,সেলিম উল্লাহ, হাসান উল্লাহ,  রণজিত শীল, বিপ্লব মজুমদার, দেবব্রত রায় দেবু, 
রনি গোমেজ প্রমুখ। খবর বিজ্ঞপ্তির।