আজ শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ || ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ শনিবার, ০৫:০৫ অপরাহ্ন
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন এন্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক হলেন সন্দ্বীপ সন্তান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন মুন্না

সোনালী সন্দ্বীপ প্রতিবেদক । ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন মুন্না দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন এন্ড ডাটা ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
২০১৯ সালে তাঁর প্রস্তাবিত দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২০ সালে চবির সাথে চীনের জাতীয় সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেকেন্ড ইন্সটিটিউট অব ওশানোগ্রাফি (SIO) এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ‘স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশন ফর মেরিন রিমোট সেন্সিং (SGSMRS)’ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি ওয়ার্কিং এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়। এতে চীনের পক্ষ থেকে টেকনিক্যাল ও ইন্সট্রুমেন্টাল সহায়তা এবং চবির পক্ষ থেকে লোকাল ও ইনকাইন্ড সাপোর্ট প্রদান করা হয়।
২০২৫ সালের ২৬ মার্চ তৎকালীন মাননীয় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে এবং চায়নিজ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অধিকাংশ স্থাপনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত চবির সিন্ডিকেটের ৫৬৬তম সভায় এ প্রকল্পকে স্বতন্ত্র কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় এবং এর নামকরণ করা হয় “Satellite Ocean Observation and Data Innovation Center, University of Chittagong”। এ কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সমন্বয়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিনকে।
প্রফেসর ড. মোসলেম উদ্দিন জানান, বর্তমানে টার্গেটকৃত স্যাটেলাইট থেকে ডাটা ডাউনলোড, প্রসেসিং প্রোগ্রামিং ও অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলছে, যা মে ২০২৬ এর মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে মাননীয় উপাচার্যের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে চূড়ান্ত অপারেশনের উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টার সমুদ্র গবেষণায় একটি অত্যাধুনিক সুবিধা তৈরি করেছে যা সমুদ্র সম্পদ আহরণ, জলবায়ু পর্যবেক্ষণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। চীনের SIO ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এ প্রকল্প বাংলাদেশকে সমুদ্র প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলবে এবং দূরবর্তী রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তির উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিগ ডাটা প্রসেসিং, উন্নত সমুদ্র গবেষণা, সাগরের গতিবিদ্যা, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাইক্লোন ও সুনামি পূর্বাভাস, স্টর্ম সার্জ মডেলিং, মৎস্য খাত উন্নয়ন, ব্লু ইকোনমি, শিক্ষা ও গবেষণা, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নীতিনির্ধারণে সহায়তা প্রদান সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জন করবে এবং আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করবে।
২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল সকাল ১০টায় মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান সেন্টারটি পরিদর্শন করেন। এসময় পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন তাঁকে সার্ভার, এন্টেনা, ল্যাব স্পেস ও ডিসপ্লে রুমসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ঘুরিয়ে দেখান।
মাননীয় উপাচার্য সেন্টারটি পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, এটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় সম্পদ। পুরোদমে কার্যকর হলে পুরো দেশ এর সুফল ভোগ করবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চীনের সহযোগিতায় স্থাপিত এ অত্যাধুনিক অবকাঠামো বঙ্গোপসাগরের নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহে বিশেষ অবদান রাখবে এবং শিক্ষার্থীরা ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে গবেষণা করতে সক্ষম হবে।