আজ মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ || ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ০৬:৩৭ অপরাহ্ন
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
পাবজি খেলে স্বপ্নের সেমিফাইনাল: ইনফিনিক্স গেইমিং কনটেস্টে ঢাবির সন্দ্বীপের ছেলে আরহাম

সাইফ রাব্বী II

মোবাইলের ছোট পর্দায় লুকিয়ে খেলা একদিন যে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্বে রূপ নেবে—সেটাই আজ বাস্তবতা। "ইনফিনিক্স পিএমচি ওয়াও চ্যালেঞ্জ" নামে জাতীয় পর্যায়ের পাবজি গেইমিং কনটেস্টে সেমিফাইনালে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম। সেই টিমের অন্যতম সদস্য সন্দ্বীপের ছেলে আরহাম জাওয়াদ (সিফাত)।

জনপ্রিয় মোবাইল ব্র্যান্ড ইনফিনিক্স আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী টিম অংশগ্রহণ করছে। গত ৩ তারিখে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড সায়েন্স–কে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিম।

আরহাম জাওয়াদ সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি সন্তোষপুর ইউনিয়নের মাষ্টার আবদুল মতিনের ছেলে এবং বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিভাগের ২০২২–২৩ সেশনের শিক্ষার্থী।

গেইমিং যাত্রার শুরুটা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জের। আরহাম বলেন, “বাসায় লুকিয়ে লুকিয়ে মোবাইলে পাবজি খেলতাম। আম্মু-আব্বু রাগ করতো। কিন্তু স্বপ্ন ছিল—একদিন দেশের কোনো বড় গেইমিং কনটেস্টে অংশ নেবো। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিম সেমিফাইনালে উঠেছি। ভবিষ্যতে দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন আছে।”

পাবজি কিংবা অনলাইন গেইমিং নিয়ে সমাজে নানা নেতিবাচক ধারণা থাকলেও এর ভিন্ন এক বাস্তবতা তুলে ধরছেন আরহামের মতো তরুণরা। বিশ্বজুড়ে গেইমিং এখন একটি স্বীকৃত পেশা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজিত বিভিন্ন টুর্নামেন্টে থাকে লাখ লাখ ডলারের পুরস্কার, যা অনেক তরুণের জীবন বদলে দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই টিমে আরহামের সঙ্গে রয়েছেন সাইফ হাসান রিমেল, হাসিবুর রহমান, নাসিফ উমর এবং ইসরাক মাহমুদ। তাদের লক্ষ্য একটাই—ফাইনালে জয় ছিনিয়ে এনে দেশের গেইমিং অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উজ্জ্বল করা।

সন্দ্বীপের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা আরহামের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মের স্বপ্নবাজ তরুণদের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণার গল্প।