আজ বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬ || ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বুধবার, ০৯:৩০ অপরাহ্ন
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
সন্দ্বীপের ভোট ময়দানে মোস্তফা কামাল পাশা বনাম আলাউদ্দীন সিকদার : মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন হাতপাখার আমজাদও

ইলিয়াস কামাল বাবু

আর কয়েকদিন পরেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৬। ২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত আন্দোলনের মুখে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গঠিত হওয়া ইন্টেরিম সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে নানা ধোয়াশা সৃষ্টির পর অবশেষে ২০২৫ সালের শেষার্ধে ১২ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন হবে বলে ঘোষণা দেন এবং সে অনুযায়ী ১১ জানুয়ারী প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করলে নির্বাচনমুখী বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ নড়েচড়ে ওঠে। শুরু হয়ে যায় কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্য়ায়ে যার যার দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং ও জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তিমত্তা প্রদর্শনে ব্যাপক শোডাউন। অবশেষে ২০ জানুয়ারী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর ও ২২ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে যায় আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্ররাভিযান।

সংসদীয় আসন ২৭৯ চট্টগ্রাম - ৩ (সন্দ্বীপ) এ এবার ৫ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন জমা দিলেও জাতীয় পার্টির এম.এ ছালামের প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। এখন ৪ প্রার্থী খাতা - কলমে থাকলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৩ প্রার্থী।

এরা হলেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সভাপতি ৯৬,২০০১ ও ২০০৮ এর নির্বাচিত বিএনপি  দলীয় সাংসদ, একটানা সন্দ্বীপের রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২৫ বছরের দক্ষ ও যোগ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল পাশা দলীয় প্রতীক " ধানের শীষ " নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত আমীর, ইসলামী ছাত্র শিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও সাবেক কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার দলীয় প্রতীক "দাঁড়িপাল্লা " মাঠে তৎপর রয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও চরমোনাই পীর মনোনীত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের উপদেষ্টা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার সিনিয়র উপদেষ্টা ও সাবেক কলেজ প্রভাষক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন দলীয় প্রতীক " হাতপাখা " নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছেন।

চতুর্থ প্রার্থী চাটার্ড একাউন্টটেড (এফসিএ) ও বাংলাদেশ কে এখনও পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কোনো প্রকার প্রচারাভিযানে দেখা না গেলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "ফুটবল " প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে ভোটপ্রার্থী হয়েছেন বলে জানান দিচ্ছেন।

তবে সংসদীয় আসন সন্দ্বীপের তৃণমূল পর্যায়ে সর্বস্তরের নারী-পুরুষের মাঝে বিএনপির দলীয় প্রতীক "ধানের শীষ" ব্যপকভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয়। আর বিএনপি দলীয় প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশার পরিবার ও তিনি সন্দ্বীপের সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক পরিচিত ও জননন্দিত। রাজনীতি করতে গিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের আমলে এ প্রবীণ নেতা ও তার সন্তানেরা বারবার হামলা-মামলার শিকার ও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন। তাইতো বার্ধক্যে এসেও বিএনপির প্রার্থী নির্বাচকমন্ডলি তাকেই পুনরায় মনোনয়ন দিয়ে সম্মাণিত ও মুল্যায়িত করেন। সন্দ্বীপের রাজনীতিতে ও সমাজসেবায় তার পরিবারের রয়েছে ব্যাপক অবদান,স্কুল-কলেজ- মাদরাসা-মক্তব,হাট-বাজার 
ও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় সাবেক এমপি মোস্তফা কামাল পাশার পিতা আলহাজ্ব আবদুল বাতেন সওদাগরের ভুমিকা কে সন্দ্বীপের সর্বস্তরের মানুষ আজো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দীন সিকদার সন্দ্বীপের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রভাবশালী নেতা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তিনি জেল-জুলুম- নির্যাতনের শিকার হন। তিনি বিগত ২/১ টি নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক " দাঁড়িপাল্লা " নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। সন্দ্বীপে জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শক্তি বিগত দিনে ব্যাপকভাবে তেমন একটা দেখা না গেলেও গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টে আওয়ামী সরকারের পতনের পরে সন্দ্বীপে জামায়াতে ইসলামীর সকল স্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা তৎপর হয়ে ওঠেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন এবং একটা শক্তভিত গড়ে তোলা সহ জামায়াতের প্রতীক "দাঁড়িপাল্লা " কে সন্দ্বীপের ভোটার সাধারণের কাছে জনপ্রিয় ও গ্রহনযোগ্য করে তুলতে সর্বাত্মক প্রচারাভিযানে নেমেছেন। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সন্দ্বীপের কালাপানিয়া ইউনিয়নের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে রাস্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি চট্টগ্রামের একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবেও ৫ বছর শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর রাজনীতির একজন সক্রিয় নেতা। তিনি দলের সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম মহানগরী শাখার উপদেষ্টা হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও সন্দ্বীপের শিক্ষা ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। এবারের নির্বাচনে আমজাদ হোসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর দলীয় প্রতীক " হাতপাখা " নিয়ে সন্দ্বীপের মাঠ দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রথমে ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকলেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে জোট থেকে বেড়িয়ে যায় চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। ফলে সন্দ্বীপে নির্বাচন করাটা আমজাদ হোসেনের পক্ষে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সন্দ্বীপে কওমী ঘরানার একটি শক্ত অবস্থান আগে থেকেই ছিলো ফলে অনায়াসেই তৈরী মাঠ পেয়ে আমজাদ হোসেনের হাতপাখার জোর বাতাস লেগেছে সন্দ্বীপে।

মো: মোয়াহেদুল মাওলা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছেন সন্দ্বীপের হরিশপুর ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত বদুমহুরী পরিবারের সন্তান হিসেবে। যদিও সন্দ্বীপের মানুষের কাছে তিনি তেমন পরিচিত মুখ নন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে " ফুটবল " প্রতীক নিয়ে সন্দ্বীপের ভোটারদের কাছে ২/১ দিনে স্বশরীরে উপস্থিত হবেন এবং সন্দ্বীপ কে নিয়ে তার কিছু কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন, যা বিভিন্ন মাধ্যমে জনসমক্ষে উপস্থাপন করবেন।

তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ভোটের তোরজোর ততই বাড়ছে। আওয়ামীলীগ বিহীন এ নির্বচনে আওয়ামী ভোট পড়া নিয়ে সংশয় থাকলেও নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় থাকলে হিন্দু ভোট ও তরুন ভোটারদের ভোট এ নির্বাচনে একটি ফ্যাক্টর হয়ে দেখা দিতে পারে এবং জামায়াত এ ব্যাপারে আশাবাদী হলেও বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সর্বশক্তি নিয়ে এ ভোটযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে তাহলে বিএনপির দুর্গ বলে খ্যাত এ সন্দ্বীপ আসন
তাদেরই। মুলত: ১২ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে সন্দ্বীপে বিএনপি কে টেক্কা দিতে চাইবে জামায়াত এটাই জনমনে ধারনা।