আজ রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬ || ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ রবিবার, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন ডা: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান উত্তরবঙ্গের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অতীতে অনেককে আপনারা ভোট দিয়েছেন। কিন্তু আপনাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। এবার মুক্তিপাগল ১০ দলের জোটকে ভোট দিন। আমরা মিলেমিশে বাংলাদেশ গড়ব। আপনারা এবার এমন মানুষকে ভোট দিন যারা দুর্নীতি করবে না। দুর্নীতিকে আশ্রয় দিবেন না। সব মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এ সময় তিনি ৫৪ বছরের বস্তাপচা রাজনীতি বদলাতে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেয়ারও আহ্বান জানান।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঠাকুরগাঁও জেলার সাবেক আমির ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা আবদুল হাকিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাস্টার মিজানুর রহমান। সহকারী জেলা সেক্রেটারি কফিল উদ্দিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, হিন্দু নেতা যতিশ বাবু, এনসিপির জেলা সভাপতি মো: রফিকুল আলম, খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা সাঈদ আহাম্মদ সাঈফীসহ ১০ দলীয় জোটের নেতারা। নির্বাচনী সমাবেশে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের সব জেলায় বিশেষায়িত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। তাদের চিকিৎসার জন্য আর রাজধানীতে যেতে হবে না। আমরা বঞ্চিতদের দুয়ারে সবার আগে উন্নয়ন দেবো। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করব। আমরা আর বেকারত্বের কষ্ট দেখতে চাই না। উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত করব। চীন ও জাপানের মানুষ পেরেছে, আমরাও পারব।

এর আগে দুপুরে সমাবেশ শুরুর আগেই জনসভার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায় অগণিত মানুষকে। দিনাজপুর ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ এবং দেশের খাদ্য ও পুষ্টির প্রধান জোগানদাতা। অথচ এই অঞ্চলকে দীর্ঘকাল পরিকল্পিতভাবে অবহেলিত ও পিছিয়ে রাখা হয়েছে। ইনশা আল্লাহ, ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানানো হবে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দান এবং সকালে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে আয়োজিত পৃথক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার বাইরে ১০ দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনে এই দুটি কর্মসূচি পালিত হয়। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর শহরকে একটি আধুনিক সিটি করপোরেশনে রূপান্তরিত করা হবে। এই অঞ্চলের কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পান না; ফসল ঘরে উঠলেই অভাবের তাড়নায় কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়। আমরা কৃষকদের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করব এবং উত্তরবঙ্গের বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করব।’ তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন কেবল টেকনাফ থেকে শুরু হবে না, বরং আমরা তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত উন্নয়নের জোয়ার পৌঁছে দেবো। উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর করুণ দশা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ তায়ালা এই অঞ্চলকে তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও করতোয়ার মতো চারটি বিশাল নদ-নদী দান করেছিলেন। কিন্তু আজ নদীগুলো মরুময় কঙ্কাল হয়ে আছে। আমাদের এই প্রাকৃতিক নিয়ামতকে গুম করা হয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, উত্তরবঙ্গে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চান না। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করে তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেয়া হবে। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব না হলে আজ আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না, নির্বাচনও হতো না। ওই লড়াইয়ে আপনারা সফল হয়েছেন, তবে আরেকটি যুদ্ধ বাকি রয়েছে- সেটি হলো ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন।’

তিনি আসন্ন নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকসহ জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। অতীতের শাসকগোষ্ঠীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কিছু বসন্তের কোকিল ভোটের সময় এসে বড় বড় কথা বলে, বাকি সময় তাদের হারিকেন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি করব না।’ তিনি একটি সমৃদ্ধ বাগানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, যেমন সব গাছ নিয়ে একটি বাগান সুন্দর হয়, তেমনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন, আধিপত্যবাদমুক্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় ১০ দলীয় জোট।