
জলে ভেজা কপোল বেয়ে নীরব অশ্রু নামে আমাদের দহলিজে,
কলজে-পোড়া শ্রমের ঘাম মিশে যায় নদীর অনন্ত গানে।
আমরা বালির ঘর বাঁধি—স্বপ্নের ভেলায়, অস্থির সময়ের বুকে,
আর বানের স্রোত এসে তা ভেঙে দেয়—খড়কুটোর অনন্ত বিলাপে।
বানভাসি আমি—এক টুকরো খড়ের আশ্রয়ে ভাসমান,
উজান থেকে ভাটি, ভাটি থেকে আবার উজান,
সময়ের জোয়ার-ভাটার অদৃশ্য হুকুমে চলি,
তবু হার মানা আমার পরাজয় নয়—
এ এক অনমনীয় বিজয়ের গোপন উচ্চারণ।
আমি সেই যুযুধান, যে পরাজয়ের ভিতরেই জয় খুঁজে পায়,
ঝড়ের ভিতর দাঁড়িয়ে শুনে নীরবতার সঙ্গীত,
ডুবে যেতে যেতে শেখে ভেসে থাকার মন্ত্র,
অন্ধকারের ভিতর গড়ে তোলে আলোর গোপন উপাখ্যান।
সাগর-পারের সেই কিংবদন্তীর বৃদ্ধ ধীবরের মত
আমিও অপেক্ষায় থাকি—
জীবনের দীর্ঘ জাল ফেলে
এক ফোঁটা শান্তি, এক টুকরো নীল আকাশ ধরার আশায়।
আমার প্রান্তিক বিবরের গভীরে জমে থাকা স্বপ্নগুলো
নিভে যায় না, শুধু জ্বলে মৃদু শিখায়,
শ্যমল স্নিগ্ধ অমল ধবল এক ললিত সন্ধ্যার প্রতীক্ষায়—
যেখানে বেদনারা রূপ নেবে শিশিরে,
আর ক্লান্ত দিন গলে যাবে গোধূলির কোমল আলিঙ্গনে।
হয়তো সেই সন্ধ্যায়
ভাঙা ঘরের ইটগুলো আবার গল্প বলবে,
খড়কুটোরা গেঁথে উঠবে নতুন নীড়ের নকশায়,
আর আমার এই ভাসমান জীবন
হঠাৎ কোনো এক অচেনা তীরে নোঙর ফেলে।
ততদিন—
আমি ভেসে থাকি, ভাঙি, গড়ি, আবার ভেসে উঠি,
কারণ আমার অস্তিত্বই এক নদী—
যার গন্তব্য হারিয়ে যাওয়া নয়,
বরং অনন্তের দিকে ধীরে ধীরে মিশে যাওয়া।
জিয়া উদ্দিন