আজ শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬ || ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ শনিবার, ০৫:০৮ অপরাহ্ন
শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
পঁয়তাল্লিশ বছর আগে বাবার সাথে আজ ছেলের সাথে হাত মিলানো : এ এক অন্য অনুভূতি

তৌহিদুল আনোয়ার রায়হান II

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে হাত মিলানো এবং শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছিল ৪৫ বছর আগে। আজ ৪৫ বছর পর তার সন্তানের সাথে হাত মিলানো এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হলো ।

৪৫ বছর আগে বাবা ছিলেন সরকার প্রধান। আর ৪৫ বছর পর ছেলে সরকার প্রধান। মাঝখানে মা ছিলেন ১০ বছর সরকার প্রধান,,,,।

মাত্র ৩ দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি দাওয়াত কার্ড পাঠানো হয়। বলা হয় "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০:০০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। "

তাই ঈদের নামাজ পড়ে নির্দিষ্ট সময়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হই

নির্দিষ্ট সময়ে প্রধানমন্ত্রী আসলেন। সাথে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডাক্তার জোবায়দা রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে হাত মিলালাম। ঈদের দিন। তাই খুব হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত বিনয়ী এবং প্রাণবন্ত আচরণ। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন কেমন আছেন? বললাম ভালো আছি। আমি পাল্টা জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কেমন আছেন?

হাসিমুখে বললেন ভালো আছি। আমি বললাম আপনাকে এবং ভাবিকেই ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

ডাক্তার জোবায়ের রহমান কে বললাম ভাবি আপনাদের ধানমন্ডির বাসায় ২০০২ সালে গিয়েছিলাম। --বললেন আবার আসবেন। প্রচন্ড ভিড়। তারপরেও আমার মনে হচ্ছিলো আমি অনেকবেশী সময় নিয়ে নিলাম। আবারো হাত তুলে সালাম দিয়ে চলে আসলাম।

১৯৮১ সালে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সন্দ্বীপ বদিউজ্জামান হাই স্কুলে গিয়েছিলেন। তখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়া ছাত্র। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে সেদিন ও হাত মিলানো হয়েছিল এবং কুশল বিনিময় হয়েছিল। সেদিন আমার দুই তালাতো বোন-- নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া সেলিনা এবং সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া হাসিনা তারাও একসাথে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে হাত মিলিয়ে ছিল এবং কুশল বিনিময়ে সুযোগ হয়েছিল । এর কিছুদিন পরেই জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপদগামী সেনা সদস্যদের হাতে শহীদ হন।

আজকের ঈদ ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানটিতে আমন্ত্রিত মেহমানদের সংখ্যা খুব বেশি ছিল না। তবে সেখানে বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন বর্ণের লোকজন ছিলেন। আলেম ওলেমা, শিল্পী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক সব পেশার লোকজনের পদভারে মুখরিত ছিল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা।

অনুষ্ঠান শেষে হালকা নাস্তা,মিষ্টি এবং কফি খেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং খোস গল্প হল । অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, সংসদ সদস্য ও ডাকসু সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরু প্রমুখের সাথে দীর্ঘক্ষণ আলাপ হলো। কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও উঠে এসে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন। একসময় কনকচাঁপা মাদারটেক এলাকায় থাকতেন। আর আমার বড় ভাই প্রকৌশলী খুরশিদুল আনোয়ার এবং ভাবি এডভোকেট রেহেরা আক্তার - তাদের বাসাও ছিল মাদারটেক। একই মহল্লায় বসবাসের সুবাদে কিছু স্মৃতিচারণ।

সবশেষে সেকেন্ড ট্রিপ কফি খেয়ে সবার বিদায়।

লেখক : তৌহিদুল আনোয়ার রায়হান, পরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়