আজ মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ || ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার, ১১:১২ পূর্বাহ্ন
সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬   |   sonalisandwip.com
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলবে : অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বক্তারা   

আবদুল হান্নান হীরা (চট্টগ্রাম) । ।  

২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় চট্টগ্রাম নগরীতে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
গত ৩০ আগস্ট রাতে নগরীর ওয়াপদা মোড়স্থ ‘প্রিন্স অব চিটাগাং’ হল প্রিন্স গার্ডেন কনভেনশন সেন্টারে-এ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, আলেম ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম ওসমান গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে, বাচিক শিল্পী সোমা মুৎসুদ্দির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বশর গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব আবুল বশর আবু। প্রধান বক্তা ছিলেন বনফুল এন্ড কোম্পানীর জেনারেল ম্যানেজার ও সমাজসেবক আমানুল আলম, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এ এস এম  লজিষ্ট্রিক’র চেয়ারম্যান তরুণ ব্যবসায়ী সমাজ সেবক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, মাদক বিরোধী সমাজ সচেতন তরুণ সমাজ সেবক মোঃ  আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি’র অধ্যক্ষ এম.এন হুছাইন, সংগঠন এর সৌদি আরবের মক্কা শাখার সভাপতি  মোঃ হারুন অর রশীদ , সমাজ সেবক  আবু তাহের, অনুষ্ঠানে  আরো বক্তব্য  বিএএফ শাহীন কলেজ চট্টগ্রামের ইংরেজি বিভাগের  শিক্ষক মো. আহসান উল্লাহ, অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মনজুর আহমেদ, সোনালী সন্দ্বীপের নগর সম্পাদক আব্দুল হান্নান হীরা, ব্রাইট সাকসেস স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল মামুন অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক এমরানুল ইসলাম মুকুল কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই সাফল্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের এই অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের উৎসাহিত করা সমাজের দায়িত্ব।
আলহাজ্ব আবুল বশর আবু বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য তাদের পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পুরো সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের জ্ঞান, মেধা ও নৈতিক মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।
আমানুল আলম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের পেছনে তার নিজের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান তাদের আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। একই সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত হবে।
এইচ এম ওসমান গনি চৌধুরী বলেন, অসহায় নারী পুরুষ ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন মানবকল্যাণের পাশাপাশি শিক্ষা ও মেধা বিকাশে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সামাজিক দায়বদ্ধতারই অংশ। শুধু ভালো ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করাই আমাদের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন পূরণে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আগামী দিনেও এ ধরনের সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত করেন মোঃ আবুল কাশেম। কৃতি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে নিজেদের সাফল্য, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও অনুভূতি তুলে ধরেন জারিন জাহারা।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিলভার বেলস গার্লস হাই স্কুল, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, বিএএফ শাহীন কলেজ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ চট্টগ্রাম, আগ্রাবাদ বালিকা বিদ্যালয়, টি এণ্ড টি উচ্চ বিদ্যালয়, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম, বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা, সুফিয়া হাই স্কুল এবং হাতে খড়ি স্কুল এন্ড কলেজ।
পরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ–৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, সভাপতি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। সম্মাননা গ্রহণকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অভিভাবক ও শিক্ষকরা ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভার যথাযথ বিকাশের জন্য পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থেকে নিজেদের জ্ঞান ও মেধাকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে আলেম, শিক্ষক, শিশু শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ আমন্ত্রিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।
উল্লেখ্য, পুরো আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার ছিল শাপলা টেলিভিশন লিমিটেড  ও সোনালী সন্দ্বীপ।