
(শিশু সাহিত্য)
ডিভোর্সের কাগজে সই করে দুটি নাম আলাদা হয়,
কিন্তু সবার অগোচরে একটি শিশুর সমগ্র পৃথিবী ভেঙে যায়।
সে তো কোনো বিচার চায়নি,
কোনো পক্ষও নেয়নি,
সে শুধু চেয়েছিল,
একটি ঘর,
চারটি হাত,
আর একই ছাদের নিচে মা ও বাবা বলে ডাকতে।
বৈকালিক খেলাধুলা কিংবা হাটাহাটির পর
বন্ধুরা যখন বাবার হাত ধরে বাড়ি ফেরে,
সে তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে
নিজের বাবার ছায়া খোঁজে।
রাত গভীর হলে মনের অসহায়ত্ব নিয়ে
বালিশ ভিজিয়ে নীরবে জিজ্ঞেস করে,
ওহ আল্লাহ,আমি কি এতটাই অভাগা?
যে আমার মা-বাবা একসাথে থাকতে পারল না?
ঈদের নতুন জামা তার গায়ে ওঠে,
কিন্তু বুকের ভেতর উৎসব নামে না।
এক হাতে মায়ের উপহার,
অন্য হাতে বাবার অনুপস্থিতি
এভাবেই সে বড় হতে শেখে।
স্কুলে সবাই যখন গল্প করে
আমার পরিবার' রচনা লিখে,
সে কলম থামিয়ে রাখে।
মস্তিষ্কে শব্দ আসে না
কারণ তার পরিবারটি
শুধু স্মৃতির ভাঙা ফ্রেমে ঝুলে থাকে আয়না।
অনেকেই তাকে করুণা করে,
অনেকে ফিসফিসিয়ে বলে
ও তো ব্রোকেন
কেউ দেখে না,
এই একটি বাক্য
কত শত ছুরির চেয়েও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।
কত রাত সে দরজার শব্দ শুনে ছুটে যায়,
মনে করে,
হয়তো বাবা এসেছে!
কিন্তু ফিরে আসে
নিঃশব্দ বাতাস,
আর দীর্ঘশ্বাসে ভরা একটি রাত।
বছরের পর বছর কেটে যায়,
তবু তার ছোট্ট হৃদয়টি
একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়ায়,
ভালোবাসা যদি সত্যিই ছিল,
তবে আমাকে মাঝপথে একা রেখে গেলে কেন?
হে বাবা...
হে মা...
তোমাদের অভিমান হয়তো একদিন শেষ হবে,
কিন্তু যে শৈশবটি ভেঙে দিলে,
সে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না।
তোমরা যখন আলাদা পথে হাঁটো
একটি নিষ্পাপ শিশু
দুই জীবন্ত মানুষকে হারিয়ে
অনাথের মতো বেঁচে থাকে।
তাই রাগের আগে জীবন্ত অনাথের কথা ভেব,
সন্তানের দুটি ভেজা চোখের দিকে একবার তাকাও।
অহংকারের আগে
তার বুকের কান্নাটা একবার শুনো।
ডিভোর্সের মামলা আদালতে জমা পড়ে একদিন
কিন্তু তার রায়,
একটি সন্তানের হৃদয়ে
আজীবন রক্তক্ষরণ হয়ে বেঁচে থাকে।
✍️এসএম জাকিরুল আলম মেহেদী
কবি, লেখক ও সাংবাদিক
কুয়েত