
চট্টগ্রাম হতে আবদুল হান্নান হীরা
দক্ষিণ চট্টগ্রাম শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে আজ আনোয়ারার বটতলী মৌজায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক পণ্ডিতবিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমি পরিদর্শন করা হয়েছে।
এসময় উপস্থাপি ছিলেন দিবাকর বড়ুয়া স্থানীয়
এমপি সরোয়ার নিজাম এর প্রতিনিধি ও আহ্বায়ক হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট আনোয়ারা উপজেলা, আলমগীর হোসেন বাহাদুর যুগ্ন আহবায়ক যুবদল আনোয়ারা থানা, রাহুল ধর সদস্য সচিব কল্যান ফ্রন্ট আনোয়ারা উপজেলা, যুবদল নেতা মোহাম্মদ সেলিম ও সবুজ বড়ুয়াসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনবোধি মহাথের মহোদয়, চারুকলা ইনস্টিটিউট এর অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমির শিক্ষক ও নাট্যজন জোবায়দুর রশিদ, আন্তর্জাতিক পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগের এর সদস্য সচিব নাট্যশিক্ষক মোস্তফা কামাল যাত্রা এবং দক্ষিণ চট্টগ্রাম শিক্ষা সাহিত্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সুরক্ষা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা উন্নয়ন সংগঠক সৌরভ বড়ুয়া প্রমুখ।
বরাদ্দকৃত জায়গাটি পরিদর্শন শেষে আন্তর্জাতিক পণ্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবক ড, জিনবোধি বলেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। যা অতিব দুঃখজনক ও হতাশাজনক। এ ব্যাপারে সরকার, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনসহ এলাকার সর্বত্র সাধারণের একান্ত সহযোগিতা কামনা করছি।
শ্মবনীয় যে, আনুমানিক খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীতে পাল রাজবংশের আমলে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশে) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশের বৌদ্ধ দর্শন, সাহিত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতো উচ্চতর শিক্ষার জন্য "পন্ডিত বিহার বিদ্যাপীঠ"। কালের বিবর্তনে সেই সময়ের শ্রেষ্ঠ এই বিদ্যাপীঠটি ধ্বংস ও বিলুপ্ত হয়ে মাটির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, একুশে পদক প্রাপ্ত, লেখক, অধ্যাপক জিনবোধি ভিক্ষু মহাথের মহোদয়কে ২০১০ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান চীন সফর করার সময় ওনাকে সফর সঙ্গি হিসেবে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ঊনি হারিয়ে যাওয়া "পন্ডিত বিহার বিদ্যাপীঠ" সম্পর্কে চীনের সরকার প্রধানকে অবহিত করলে; চীন সরকার এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা দিবে বলে আশ্বাস দেন।
সফর শেষে বাংলাদেশে আসার পর ২০১১ সালে তিনি তৎকালীন সরকার প্রধান বরাবর আকুল আবেদন জানালে, সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, আনোয়ারায় দেয়াঙ পাহাড়ের পাশে বটতলী মৌজায় ৫০ একর জমিসহ বিশেষ প্রাথমিক বাজেট হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে। যার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং "আন্তর্জাতিক পন্ডিত বিশ্ববিদ্যালয় আইন - ২০১২" প্রনয়নসহ গেজেট আকারে প্রকাশ করেছিল।
কিন্ত, কীসের কারণে প্রায় ১৪ বছর পরেও এর কার্যক্রম স্থগিত হয়ে আছে তা বোধগম্য নয।
উক্ত পরিদর্শনকালে তিনি বরাদ্দকৃত জমি বেদখল হয়ে যেতে দেখে খুব্ধ পতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ও সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।